ঢাবি প্রতিনিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী জালাল আহমদ ওরফে ‘জ্বালাময়ী’ জালালকে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল থেকে বেআইনিভাবে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে। বহিষ্কারাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং হলের বৈধ সিট ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) জালালের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন (মুন্সী বেল্লাল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট পিটিশন দাখিল করেন। রিটের বাদী জালাল আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। রিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ দিবাগত রাতে জালাল আহমদকে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করে হলের ৩৫১ নম্বর কক্ষ থেকে মারধর করে বের করে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর দীর্ঘদিন তিনি হলে অবস্থান করতে পারেননি।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি বৈধ প্রক্রিয়ায় হলে ওঠেন। এ সময় তার কক্ষে ডাবলার হিসেবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিরকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তানজির ওই কক্ষে না উঠে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলামকে অন্য একটি কক্ষ থেকে এনে সেখানে ওঠান।

রিটে আরও বলা হয়েছে, রবিউল ইসলামের নাক ডাকার কারণে জালাল আহমদের ঘুমের সমস্যা তৈরি হয় এবং এ নিয়ে দুজনের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ দেখা দেয়। উভয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসন রবিউল ইসলামকে অন্য কক্ষে চলে যেতে বললেও তিনি তা মানেননি। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম গত বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষা শেষ করেও আট মাস ধরে মুহসীন হলের ৪৬২ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন।

রিটে বলা হয়, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলে বহিরাগত ও শিক্ষাজীবন শেষ হওয়া শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে অবস্থান করছে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গত বছরের ৮ এপ্রিলের মধ্যে হল ত্যাগের নোটিশ দেওয়া হলেও অনেকে তা মানেননি।

এমতাবস্থায় ডাকসু নির্বাচনের আগে গত ২৬ আগস্ট বিকেলে মুহসীন হলসহ বিভিন্ন হলে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বহিরাগত ও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিতে আইনজীবীদের কাছে যান জালাল আহমদ।

রাতে কক্ষে ফেরার পর ভিপি প্রার্থী জালাল আহমদের সঙ্গে রুমমেট রবিউল ইসলামের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রবিউল পুরোনো টিউবলাইট দিয়ে জালালের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে দুজনেই আহত হন বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

পরে রবিউল ইসলাম ‘বিভিন্ন সংগঠনে অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগ’ নেতাদের নিয়ে কক্ষের বাইরে মব তৈরি করে জালাল আহমদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি প্রক্টর ও আবাসিক শিক্ষককে জানানো হলেও মব জানালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় জালাল আহমদকে শাহবাগ থানায় নেওয়ার সময় মব পথরোধ করে তাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে হত্যাচেষ্টা চালায় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করে জালাল আহমদকে ফাঁসানো হয়েছে। তদন্ত ছাড়াই প্রভোস্ট তাকে হল থেকে বহিষ্কার করেন। মবের হামলায় আহত হলেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং প্রশাসন ও পুলিশ তার বক্তব্যও শোনেনি। বরং শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।

পরে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠান। গত ১১ সেপ্টেম্বর আদালত জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে মব সন্ত্রাসীদের বিচার, হলের সিট ফিরিয়ে দেওয়া এবং মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।

রিটে জালাল আহমদের বহিষ্কারাদেশ বাতিল করে তাকে হলের বৈধ সিট ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।